বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটেতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক টেকনলোজি সেন্টার

২১ জুলাই, ২০২০ ২১:১১  
দেশের প্লাস্টিক পণ্য ও হালকা প্রকৌশল খাতের উন্নয়নে দেশে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের টেকনোলজি সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে। সেখানে প্রায় পাঁচ একর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের দুটি অত্যাধুনিক টেকনোলজি সেন্টার। সেন্টারগুলোতে থ্রি-ডি প্রিন্টিং ও ডিজাইন সেন্টার, টেস্টিং ও ক্যালিব্রেশন ল্যাব, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন সেন্টার, টেকনোলজি ইনোভেশন ও ইনকিউবেশন সেন্টার, ওয়ার্কশপ, মেশিনশপ, লাইব্রেরী ভবন, বিজনেস সেন্টার ইত্যাদি সুবিধা থাকবে। এছাড়াও, বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি, কালিয়াকৈর, গাজীপুরে নির্মিতব্য টেকনোলজি সেন্টারে ইলেকট্রনিক্স ও আইটি ভিত্তিক ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প সমূহকে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান করা হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এক্সপোর্ট কম্পেটিটিভনেস ফর জবস (ইসি৪জে) প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হবে এই প্রকল্প। মঙ্গলবার ইসি৪জে প্রকল্প পরিচালক মো. ওবায়দুল আজম এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিচালক ও যুগ্মসচিব এ এন এম সফিকুল ইসলাম একটি চুক্তিতে সই করেন। বেজা অফিসে সম্পাদিত এই চুক্তি উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি। বাণিজ্য সচিব ড. মোঃ জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরাকরি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। হাইটেক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ- বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এসময় অনুষ্ঠানে সংযুক্ত ছিলেন। বাণিজ্য  মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বর্তমান সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও বাণিজ্য নীতি ২০১৮-২১ এ রপ্তানি বাণিজ্যে বৈচিত্রকরণে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ‘‘এক্সপোর্ট কম্পেটেটিভনেস ফর জবস” শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে চামড়া, চামড়া-জাত পণ্য, ফুটওয়ার, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্লাস্টিক প্রোডাক্ট; এর চারটি খাতের মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণসহ পণ্য সমূহের রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত বিশ্বমানের এসব টেকনোলজি সেন্টারসমুহ সংশ্লিষ্ট খাতসমূহের বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম বলেন, দেশে যে কোনো সময়ের তুলনায় সব চেয়ে ভালো বিনিয়োগ পরিবেশ বিরাজ করছে। আর বিনিয়োগের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে আইটি সেক্টর। দেশের হাই-টেক পার্কগুলোতে তাই বিনিয়োগে যেমন সীমিত ঝুকি তেমনি এখান থেকে অধিক মুনাফাও করা সম্ভব। বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমানে আমরা ১৪টি প্রনোদনা সুবিধা দিচ্ছি। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সর্বাধুনিক সুবিধা সম্বলিত বিশ্বমানের এসব টেকনোলজি সেন্টারসমুহে হালকা প্রকৌশল ও প্লাস্টিক খাতসহ সংশ্লিষ্ট ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের শিল্প সমূহের জন্য লাগসই প্রযুক্তিগত সেবা, যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও ব্যবসায়িক পরামর্শ সেবা প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় ক্ষুদ্র এবং মাঝারি শিল্পসমূহকে রপ্তানি সক্ষম করে তোলা হবে।